ঢাকা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১
শিরোনাম ::
চায়ের দোকানদার রাজ্জাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ,অভিযুক্তকে পিটিয়ে হত্যা করে জনতা ধামরাইয়ে তুচ্ছ ঘটনায় নারীকে পিটিয়ে হত্যা, মামলার ৮ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার পলাতক বাবা-ছেলে মোশারফের বিয়েতে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের শুভেচ্ছা বিনিময় মুসলিমদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিশেষ ছবি উপহার দিলেন,বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস শ্রীপুরে উৎসব মুখর পরিবেশে গাজীপুর লিজেন্ড ক্রিকেট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত গাজীপুরের কালিয়াকৈর ডাকাতিকালে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা,আটক ২ মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদ,আক্তারুল আলম মাস্টারের সংবাদ সম্মেলন রাজশাহীর তাহেরপুরে মিন্টুর আয়োজনে ‘খালেদা জিয়ার’ রোগমুক্তি কামনা’য় দোয়া ও ইফতার-মাহফিল
পার্বত্য জেলা আজ পিছিয়ে পড়া কোনো জনপদ নয়: প্রধানমন্ত্রী

পার্বত্য জেলা আজ পিছিয়ে পড়া কোনো জনপদ নয়: প্রধানমন্ত্রী

  • হাসান রফিক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৩
  • 254

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পার্বত্য জেলাসমূহ আজ কোনো পিছিয়ে পড়া জনপদ নয়। আমাদের সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এ অঞ্চলের জনগণ সম-অংশীদার। এসব জেলাসমূহের নৈসর্গিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ ও পর্যটন শিল্পের প্রসারে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এই ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংঘাতময় পরিস্থিতি নিরসনের তৃতীয় পক্ষ বা বহিঃশক্তির মধ্যস্থতা ছাড়াই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এই ঐতিহাসিক শান্তির দলিলটি স্বাক্ষরিত হয়। চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বিশ্ব ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।

শেখ হাসিনা বলেন, সর্বপ্রথম আধুনিকতার ছোঁয়া বিবর্জিত পশ্চাৎপদ পার্বত্য জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং পার্বত্যবাসীর জীবনমান উন্নয়নে তিনি নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেন। আঞ্চলিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের সমান সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা নেন। এ লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৭৩ সালের জুন মাসে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহে পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সুনির্দিষ্ট আসন সংরক্ষণের নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির আলোকে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা গত বছর পার্বত্য অঞ্চলে একই দিনে ৪২টি সেতু উদ্বোধন করেছি। এ অঞ্চলের সব বেইলি ব্রিজ অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণ করে দিচ্ছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও মোবাইল নেটওয়ার্কসহ সবখাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। রাঙ্গামাটিতে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। ভূমি বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত ভূমি কমিশন কর্তৃক বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলায় উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে শান্তি এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সবার সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র শান্তি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। আমি আশা করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ “সোনার বাংলাদেশ” গড়ে তুলতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।

ট্যাগস :

চায়ের দোকানদার রাজ্জাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ,অভিযুক্তকে পিটিয়ে হত্যা করে জনতা

পার্বত্য জেলা আজ পিছিয়ে পড়া কোনো জনপদ নয়: প্রধানমন্ত্রী

পার্বত্য জেলা আজ পিছিয়ে পড়া কোনো জনপদ নয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:৪৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পার্বত্য জেলাসমূহ আজ কোনো পিছিয়ে পড়া জনপদ নয়। আমাদের সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এ অঞ্চলের জনগণ সম-অংশীদার। এসব জেলাসমূহের নৈসর্গিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ ও পর্যটন শিল্পের প্রসারে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এই ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংঘাতময় পরিস্থিতি নিরসনের তৃতীয় পক্ষ বা বহিঃশক্তির মধ্যস্থতা ছাড়াই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এই ঐতিহাসিক শান্তির দলিলটি স্বাক্ষরিত হয়। চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বিশ্ব ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।

শেখ হাসিনা বলেন, সর্বপ্রথম আধুনিকতার ছোঁয়া বিবর্জিত পশ্চাৎপদ পার্বত্য জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং পার্বত্যবাসীর জীবনমান উন্নয়নে তিনি নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেন। আঞ্চলিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের সমান সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা নেন। এ লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৭৩ সালের জুন মাসে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহে পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সুনির্দিষ্ট আসন সংরক্ষণের নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির আলোকে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা গত বছর পার্বত্য অঞ্চলে একই দিনে ৪২টি সেতু উদ্বোধন করেছি। এ অঞ্চলের সব বেইলি ব্রিজ অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণ করে দিচ্ছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও মোবাইল নেটওয়ার্কসহ সবখাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। রাঙ্গামাটিতে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। ভূমি বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত ভূমি কমিশন কর্তৃক বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলায় উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে শান্তি এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সবার সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র শান্তি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। আমি আশা করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ “সোনার বাংলাদেশ” গড়ে তুলতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।